জাতির পিতার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী​

জাতির পিতার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী

জাতির পিতার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী

জাতির পিতার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী – হে বীর বাঙালীর প্রয়াত মহান পিতা, গতকাল আপনার প্রয়ান দিবস গত হল। গতকাল প্রায় সারাদিন নানান আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক দিবস পালন করলেন। যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের উত্তরসূরী তারা বেদনাতুর ভাবে বুকে শত সহশ্র কষ্ট ও শোক নিয়ে নিয়ে আপনাকে স্মরন করলেন। আবার মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী-আমাদের প্রজন্ম, যারা কিনা পাঠ্যবই অথবা বিভিন্ন নেতা/নেত্রী কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ কারো কাছে আপনার ত্যাগের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদানের কথা জেনেছি তারা এই দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবনের চেষ্টা করেছি। হে মহান পিতা- আমাদের ক্ষমা করবেন আপনার প্রদত্ত স্বাধীনতা আমরা হয়ত আর রক্ষা করতে পারলাম না।

আপনার রেখে যাওয়া স্বাধীনদেশ আজ পরাধীনতার শেকলে আবৃত। পাড়ার পাক্কা ছিঁচকে চোর ছেচর আজ আপনার পবিত্র ছবি, তার ছবির সাথে জুড়ে দিয়ে আপনার সম্মান ধুলোয় আচ্ছাদিত করে। স্বাধীনতার যদি বাকপ্রতিবন্ধি না হতো, তবে হয়ত সে চিৎকার করে করে বারবার মূর্চ্ছা যেত। রাতের আধারে যে ছায়া নারীর সম্ভ্রম ধুলোয় মিশায়, সূর্যের আলোয় সেই ছায়া প্রতিকৃতি হয়ে নানান রঙের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে। যেই মসনদে বসে সেই যেন রক্তখেকো হয়ে ওঠে। আজ টাকার দাড়িপাল্লায় মানুষের সম্মান মাপা হয়, সেই পাল্লায় সৎ, গরীব মেহনতী মানুষের ওজন বাষ্পের মতন উবে যায়।

কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় লিখে গিয়েছিলেন-

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরের এই বাংলায়
হয়তো মানুষ হয়ে- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।

জাতির পিতার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী

যদি এমন হত, আপনি আবার ফিরে এসেছেন, কতই না ভাল হতো। আপনার মত জনদরদী নেতার বড় সংকট। পুরোনো যুগের মতো, আজ সবাই যুদ্ধ করে রাজা হয়ে রাজত্ব কায়েম করতে চায়। প্রজাদরদী হয়ে কেউ প্রজার সুখ বা দুখের কথা জানতে বা শুনতে চায় না। আজ এতবছর পর আপনার অভাব সবাই বোধ করে। আপনার একদা স্বাধীন দেশের জনগন আজ পরাধীনতার শেকল নিয়ে পথ চলে। বাল্যকালে একসময় ভুতের গল্প শুনিয়ে মা ঘুম পাড়াত। বাবা বলত বড় হলে আর ভয় পাবি না। বড় হওয়ার পর উপলব্ধি করলাম বাবা মিথ্যে বলেছেন, ভয়ের যে একটা চেহারা ও হয় তা বড় হয়ে দেখতে পেলাম। রাস্তায় বেরুলে ট্রাকের ভয়, রাতে চোর ছিনতাই কারী বা ডাকাত কিংবা গুমের ভয়, ভোটের সময় এলে সরকারী দলের প্রার্থীর ভয়, থানায় গেলে পুলিশের ভয়, কিছু কষ্টের টাকায় যে হত দরিদ্র রাস্তায় ঢেলাগাড়ি করে ফেরী করে তার আবার চাঁদাবাজের ভয়, পড়াশোনা শেষে চাকুরী না পাওয়ার ভয়, সরকারী চাকুরীতে উৎকোচের ভয়, বিয়ের পরে বউয়ের ভয় আর এই পোষ্ট ফেইসবুকে শেয়ারের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয়। সর্বপরি আমরা একটা ভয়ের রাজত্বে বসবাস করছি।

হে মহান পিতা- এতকিছুর পর আমাদের একমাত্র আশা ও ভরসা, আপনার একমাত্র সুযোগ্য কণ্যা। তিনি এই জাতির জন্য দিনরাত অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রম করে চলেছেন। যদিও তাতে আমরা প্রজারা তেমন উপকৃত হতে পারছি না। তিনি উপুড় থেকে জল ঢেলে দেন, কিন্তু তা আমাদের ঠোট অবধি আসতে আসতে বেশ কিছু ছাকুনির ঝাকুনিতে তা বিন্দুতে পরিনত হয়। সেই বিন্দুর ফোটাও ক্রমাগত ক্ষীন হয়ে আসছে। কারন উপরের স্তরের ছাকুনির ছিদ্রগুলো দিনদিন যেন আরো ক্ষুদ্র হচ্ছে। হয়ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হতে হতে একসময় বিলীন হয়ে যাবে আর আমরা প্রজারা তৃষ্ণায় ছটফট করতে করতে পটল তুলব। সে সময় হয়ত আর কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও আপনার বরাবর আমার এই পত্রথানা স্মৃতি হয়ে থাকবে।

হে জাতির সুযোগ্য দ্বিকপাল- আমরা আপনাকে আজ সবাই সম্বরণ করি। আপনার শূন্যতা আজ আমরা আকুল চিত্তে অনুধাবন করি।
তাই ফিরে আসুন দেশে,
নতুন কোন বেশে।

পত্র প্রেরক- স্বাধীন রাজার পরাধীন প্রজা 
আশিকুর রহমান

Leave a Comment

Your email address will not be published.